প্রদীপের সাথে এক বেলা, বাংলা উইন্ডোজ নিয়ে কিছু কথা…

গত ২১ মে ২০০৭ মাইক্রসফট উইন্ডোজ গ্লোবালাইজেশন প্রজেক্ট ম্যানেজার প্রদীপ প্রাপিল বাংলাদেশে আসেন। উনার আসার উদ্দেশ্য ছিলো বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শন করা।

আমি প্রদীপের সাথে কাজ করছি অনেকদি যাবৎ। উইন্ডোজে বাংলা ঢোকানোর বিষয়ে যথেষ্ট সহযোগিতা করেছিলাম আমি প্রদীপের মাধ্যমে মাইক্রসফটকে। এমনিতে বাংলা ফন্ট এবং ইউনিকোড প্রসেসর উন্নয়নে আমি কাজ করতাম পিটার কন্সটেবল এবং পল নেলসনের সাথে। কিন্তু বাংলার পরবর্তি বিষয়গুলির দায়ভার এসে পড়ে মাইক্রসফট ইন্ডিয়ার উপরে এবং প্রদীপ মাইক্রসফট উইন্ডোজ গ্লোবালাইজেশন প্রজেক্ট ম্যানেজার হওয়ায় বিষয়টি তার নিয়ন্ত্রনে থাকে।

উইন্ডোজ এক্সপি সার্ভিস প্যাক ২ এর জন্য যে বাংলা চেহারাটি হয়েছিলো সেই প্রকল্পটি অনেকখানি আমি তদারকি করেছিলাম। সেজন্য আমাকে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে থাকতে হয়েছিলো দেড় মাস। পরে আমি দেখলাম যে ওপার বাংলার লোকের সাথে তর্ক করে লাভ নেই, তারা টারমিনোলজি বলতে কিছু রাখতে চায়না, সবকিছু বাংলা করতে চায়, পাবলিক বুঝুক আর না-ই বুঝুক। সেজন্য আমি অবশর নিয়ে চলে আসি, তখন অবশ্য ৮০% কাজ হয়ে গিয়েছিলো।

এরপর আসে বাংলা গ্লোসারি তৈরীর পালা। গ্লোসারি বলতে বোঝানো হচ্ছে শব্দ ভান্ডার। এই কাজটি বিশ্বভারতীর চাইতে ভালো কেউ করতে পারে বলে আমি মনে করিনা। কিন্তু যেহেতু আগেরবার একটা ঝামেলা হয়+এখানকার কম্পিউটার বিশেষজ্ঞরা সবসময়ই বলে আসেন যে মাইক্রসফট বাংলাদেশের কনসার্ন ছাড়াই বাংলার কাজ করছে, তাই আমার কাছে পরামর্শ চাইলে আমি বাংলা একাডেমীকে এই কাজ দিতে বলি। পরে বিভিন্নভাবে বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল কর্তৃক কাজটা করা হয় এবং আমি এই কাজের সাথে জড়িত ছিলাম না। শুধু আমাকে গ্লোসারিটা রিভিউ করতে দেয়া হয় এবং সেই গ্লোসারির উপর ভিত্তি করে মাইক্রসফট ওয়ার্ড ২০০৭-এর যে স্পেল চেকার হয়েছে সেটা সামনের মাসে আমাকে পরীক্ষা করতে দেয়ার কথা।

এরপরে আসে উইন্ডোজ ভিস্তা এবং অফিস ২০০৭-এর বাংলা (বাংলাদেশ) ইন্টারফেস তৈরীর পালা। প্রদীপ আমাকে জিজ্ঞেস করলে আমি এই বিষয়ে কোনো মত দেই না। আর সেই সময় আমি আমার ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে একটু ঝামেলার মধ্যে থাকায় বিষয়টিকে আর গা করি নাই। পরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়কে সেই কাজ দেয়া হয়, কিন্তু কাজ এখনো কেনো শুরু হয়নি সেটা জানতেই প্রদীপ বাংলাদেশে আসেন।

২২ তারিখে সব মিটিং শেষ করে সন্ধ্যার আগে আগে প্রদীপ আমার অফিসে আসে আমার সাথে দেখা করার জন্য। সেখানে কিছু আলাপ করার পরে প্রদীপ আমকে + আমার পরিবারকে রেডিসনে নৈশভোজ করাতে নিয়ে যায়। এরকম একজনের সাথে একটা সন্ধ্যা কাটানো আমার জন্য অত্যন্ত গর্বের একটা বিষয়। আর প্রদীপের যে বিষয়টি আমাকে সবচাইতে মুগ্ধ করেছে সেটা হলো, এত বড় একটা পদের অধিকারী হয়েও তার সমস্থ আচার ব্যবহার হুবহু আমাদের মতন। কোনো গর্ব নেই, কোনো তাচ্ছিল্য নেই।


সেদিন উবুন্টু সিপ-ইট আমাকে উবুন্টুর সিডি পাঠায়..
আর সেটাও আমাদের আলাপের একটা বিষয় হয় সেদিন

Leave Comments...

Darklord says:

ওনারে উবুন্টুর একটা কপি দেননাই :)

অনেক তথ্য জানতে পারলাম। ধন্যবাদ আপনাকে ।

দারুন ব্যপার, ধন্যবাদ দারুন তথ্যের জন্য