বিটিআরসির নির্দেশ – নিজ নেটওয়ার্কে গ্রাহকদের বোনাস টকটাইম দিতে পারবে না মোবাইল অপারেটররা

নিজ নেটওয়ার্কে গ্রাহকদেরকে আর বোনাস টকটাইম দিতে পারবে না মোবাইল অপারেটররা। এটি দিতে হলে এক নেটওয়ার্ক থেকে অন্য নেটওয়ার্ক ব্যবহারের ক্ষেত্রেই কেবল দেয়া যাবে। প্যাকেজের জন্য প্রমোশনাল পুরস্কার হিসাবে সোনার কয়েন, বিদেশ ভ্রমণের খরচ বা গাড়ির মতো পুরস্কারও দেয়া যাবে না। প্যাকেজের সময়সীমা হবে সর্বোচ্চ দুইমাস। দেশের ঐতিহ্য, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়-এমন কোনো ভাষা ও বিষয়বস্তুর মাধ্যমে বিজ্ঞাপনসহ প্রচারণামূলক কোনো কার্যক্রমও চালানো যাবে না। আর কলচার্জ হবে সর্বোচ্চ ২ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা মাত্র। মোবাইল ফোন অপারেটরদের জন্য বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) এই আদেশ জারি করেছে।

গতকাল বিটিআরসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সম্পর্কে বলা হয়, দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে অন্যান্য যোগাযোগের সঙ্গে টেলিযোগাযোগ তথা মোবাইল ফোন প্রযুক্তির ক্ষেত্রেও ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। পরিবর্তিত পরিসিহতিতে দেশের জনগণের কাছে মোবাইল ফোন আগের তুলনায় সহজলভ্য হলেও কলচার্জ প্রত্যাশিত পর্যায়ে নেই। জনগণের দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা, কম খরচে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ দেয়ার জন্য বিটিআরসি সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষেই বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ আইন-২০০১-এর বিধান অনুযায়ী বিটিআরসি দেশের দ্রুত বিকাশমান টেলিযোগাযোগ শিল্পে সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে বৈষম্যমূলক ব্যবসা প্রতিরোধ ও অবসানে প্রতিযোগিতামূলক এবং বাজারমুখী ব্যবসার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ট্যারিফ ও বিভিন্ন চার্জের হার নির্ধারণ সম্পর্কে নির্দেশনামূলক ‘ট্যারিফ রেগুলেশন’ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে। এ রেগুলেশনের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য হবে গ্রাহকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থ সংরক্ষণ এবং টেলিযোগাযোগ সেবাপ্রদানকারীর বিদ্যমান কিংবা সম্ভাব্য পীড়ন বা বৈষম্যমূলক আচরণ বা কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও দূর করার ব্যবসহা করা।

বিটিআরসি এ বিষয়ে টেলিযোগাযোগ আইন-২০০১-এর বিধান অনুযায়ী সর্বোচ্চ ও র্সবনিম্ন কলচার্জ নির্ধারণসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নীতিমালা অনুমোদন করেছে এবং গত ২৬ জুলাই এ সংক্রান্ত একটি অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে-এখন থেকে যে কোনো মোবাইলে কলচার্জ সর্বোচ্চ ২ টাকা এবং সর্বনিম্ন ২৫ পয়সা। একই কলচার্জ সারাদেশের জন্য প্রযোজ্য হবে। নির্ধারিত এই সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন কলচার্জের মধ্যে কোনো ট্যারিফ অনুমোদনের জন্য প্রতিবারই কমিশনের পূর্ব অনুমোদন নিতে হবে প্রমোশনাল প্যাকেজের সময়সীমা সর্বোচ্চ ২ মাস হবে। এই সময়সীমা ২ মাসের বেশি সহায়ী হলে তা সহায়ী ট্যারিফ বলে বিবেচিত হবে। প্যাকেজ মাইগ্রেশনের জন্য গ্রাহকদের কাছে অতিরিক্ত কোনো কলচার্জ গ্রহণ করা যাবে না। প্রি-প্রেইড গ্রাহকদের কাছ থেকে কোনো প্রকার নির্ধারিত মাসিক চার্জ গ্রহণ করা যাবে না। বোনাস টকটাইম কেবল অফনেট কলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ নিজ নেটওয়ার্কে কোনো বোনাস টকটাইম দেয়া যাবে না। প্যাকেজের জন্য প্রমোশনাল পুরস্কার হিসেবে এয়ার টাইম, টকটাইম, এসএমএস এবং মোবাইল হ্যান্ডসেট ছাড়া অন্যকোনো মূল্যবান সামগ্রী-যেমন সোনার মুদ্রা, বিদেশ ভ্রমণ, গাড়ি ইত্যাদি পুরস্কার হিসেবে দেয়া যাবে না। মোবাইল ফোন প্যাকেজের বিজ্ঞাপন, প্রচারণামূলক প্রদর্শন, বিভিন্ন অনুষ্ঠান প্রচারণা-ইত্যাদির ভাষা ও বিষয়বস্তু দেশের ঐতিহ্য ও সামাজিক সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতে হবে।

কমিশন আশা করে যে, মোবাইল অপারেটররা জনস্বার্থে জারি করা অন্তর্বর্তীকালীন এই আদেশ যথাযথভাবে মেনে চলবে। সেবা ও চার্জের ব্যাপারে অন্যায় ও অযৌক্তিকভাবে কোনো ব্যক্তি গোষ্ঠী বা শ্রেণীর ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করবে না। এর ফলে দেশের কোনো গ্রাহককে অতিরিক্ত কোনো কলচার্জ প্রদান করতে হবে না এবং তাদেরকে লোভনীয় পুরস্কার/প্যাকেজের মাধ্যমে বিভ্রান্ত হতে হবে না।

Leave Comments...

Darklord says:

হা হা দারুন

Omi Azad says:

খুব সুন্দর হয়েছে…

অজানা says:

ডিজুস কথোপকোথন (কাল্পনিক)

স্থান: ড. কুদ্দুস তার শহুরে ফোনের অফিসে। একটা ফাইল দেখছেন।

কুলু কুলু কুলু… কুলু কুলু.. ড. কুদ্দুসের মোবাইলে রিং বেজে উঠল।
ড. কুদ্দুস ফোন ওঠালেন।
হ্যালো।
এপাশে: কোন শব্দ নেই।
হ্যালো..
এপাশে আবারো চুপ
হ্যালো, কে বলছেন?
এপাশে: স্যার আমার নাম্বার দেইখাও চিনতে পারেননি? আপনার সাথে না আমার এক্সট্রা খাতির?
ড.কু.: তা কী ব্যাপার বলুন
এপাশে: না, এমনি ফাও গেজাইতে রিং দিলাম আরকি।
ড.কু.: দেখুন কাজের কথা বলুন, আমি ব্যস্ত
এপাশে: ক্যান স্যার, একটু আজাইরা পেচাল নাহয় পাড়লেনই কিছুক্ষণ
ড.কু. আপনি কি বলবেন বলেন, আমি একটু ব্যস্ত
এপাশে: স্যার আমি আপনার লগে পিজা হাটে যাইতে চাই, নিবেন?
ড.কু.: আমার অত সময় নাই, আর ওখানে তো অনেক খরচ।
এপাশে: কী যে কন স্যার, নো আউল ফাউল খরচ, ডিজুস আছেনা?
ড.কু. (কিছুটা থতমত খেয়ে) কী বলতে চান আপনি
এপাশে: কী আর কমু, যে জিনিস দিলেন– জুস না কী, পোলাপানের মাথাডাই নষ্ট কইরালাইলেন।
ড.কু.: ফোন রেখে দিয়ে আবার কাজে মন দিলেন।

সে যাই হোক আমাদের বাংলা ভাষাকে এভাবে বিকৃত ভাবে উপস্থাপন করার
অধিকার কি ওদের বাপে দিছে ।

তাদের ওয়েবসাইটেও দেখলাম “Grahak Katha “

Omi Azad says:

আমার মনেহয় djuice.com.bd সাইটে গেলে (থুক্কু সামনে আবার www লাগাতে হয়, www ছাড়া সাইট খোলে না :) ), ওদের ভাষা জানা যাবে।

কিন্তু কথা হলো, ওরা কিন্তু বাঙলা ভাষার পরিবর্তন করেনি, করেছে লিপির। ভাষা ঠিকই আছে, আমরা যুদ্ধ করেছিলাম ভাষার জন্য, লিপির জন্য না। :p

ডিজুসকে একটু পাম দিলাম :)

সম্ভবত কম্পিউটার বিচিত্রা না বার্তা য় এ নিয়ে একবার লিখেছিল তাদের কে
অসংখ্য ধন্যবাদ। আমর কাছে ম্যাগাজিন টা ছিল মনে হয় এখন খুজে পাচ্ছিনা

আসুন লিস্ট করি তারা যেসব বাংলা ভাষাকে ইংরেজিতে লিখেছিল। আমার কাছে অল্প কয়েকটা বিজ্ঞাপন এর কাগজ আছে -

# Pizza Hut এর একটা এ্যাড ছিল

1. XTRA” KHATIR” ON KHANA PINA

# G -SERIES সিডি নিয়ে “Agontuk 3″ & “X Factor”

2. XTRA “KHATIR” ON “GAAN BAAJNA”
নিচে একটা লাইন লেখা ছিল ” BAJAAO NACHO R GAAO”

# ডিজুস যখন ১১০০ টাকা থেকে ৪৫০ টাকায় হয়

3. DJUICE” EKHON” TK 450

# যখন ডিজুস ২ ডিজুস রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত ফ্রি ছিল

4. NO OWL FOUL COST djuice থাকলে
alga “khoroch” এর কোন ব্যাপারই নাই

তবে সাম্প্রতিক বিজ্ঞাপন গুলো আমার কাছে নাই । আপনাদের কাছে থাকলে এখান জানান। পুরোনো গুলোও

এই বাংলাদেশিরা বদলে গেছে অনেক । পাকিস্তানিরা যেটা করতে পারলোনা

সেটা একটা বিদেশী মোবাইল কোম্পানী করে ফেললো কোটি বাংলাদেশীর

চোখের সামনে অথচ আমরা কিছুই বললাম না। শুধু পার্থক্য এটাই তখন
ছিল উর্দু ভাষা আর এখন ইংরেঝী ভাষা ।

আমি প্রতিবাদ করতে চাই কে আছেন আমার সাথে।

আর তোদের কে বলছি তোরা যারা ডিজুস এর বাংলা শব্দকে
ইংরেজীতে লিখে প্রকাশ করা নিয়ে প্রতিবাদ করছিসনা তোদের অধিকার
নেই ২১ শে ফেব্রুয়ারী তে শহীদ মিনারে গিয়ে ফুল দেওয়ার

Omi Azad says:

ডিজুস কি সুধরে গেছে? এখনো তো ওরকমই আছে…

খেয়াল আছে ডিজুস বাংলা ভাষাকে ইংরেজীতে ব্যাবহার করে কিভাবে বাংলা ভাষাকে বলৎকার করেছিল :(

Smile says:

এখন এরকমও শোনা যাচ্ছে যে আগামীতে বিটিআরসি মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলির ইন্টারনেটের ব্যবসায় হস্তক্ষেপ করতে যাচ্ছে। ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডারদের চাপে তারা বাধ্য হয়ে মোবাইল নেটওয়ার্কে ইন্টারনেট ব্যবসা বন্ধ করে দিতে পারে।