1 November 2008
বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন – পাগলে কি-না বলে, ছাগলে কি-না খায়!
আসলেই, আমাদের দেশের বিজ্ঞাপনের এই দশা (!) এখন। এক মোবাইল কোম্পানি বলে “কাছে থাকুন” আবার ঐ কোম্পানিই আরেকটি বিজ্ঞাপনে বলে “হারিয়ে যাও।” তাহলে কি বলা ভুল হলো “পাগলে কি-না বলে, ছাগলে কি-না খায়!”
ঘটনার শুরু লন্ডনে। সেখানকার এক টেলিভিশন চ্যানেল ভুল করে একটা বিজ্ঞাপন প্রচার করে হরলিকস্ নামের একটি পণ্যের। সেখানে দেখানো হয় যে হরলিকস্ খেলে আপনার বাচ্চারা হয়ে উঠবে আরও লম্বা, আরও কঠিন এবং আরও ধুর্ত। ওরে বাবা! আর বাকি থাকলো কি!!!
এই বিজ্ঞাপন প্রচারের সাথে সাথে ওখানে একটা হাঙ্গামা হয়ে গেলো, সাধারণ জনগনের একটাই প্রশ্ন যে এরকম কিভাবে হয়। এবং এই প্রশ্নের জবাবে হরলিকস নির্মাতা জানায় যে ঐ বিজ্ঞাপনটি বাংলাদেশের জন্য তৈরী করা হয়েছে এবং ভুল করে ওখানে প্রচারিত হয়ে গিয়েছে। আমার এক বন্ধু আমাকে লন্ডন থেকে দৈনিক মেট্রোতে প্রকাশিত একটি সংবাদের ছবি পাঠায়, যেটা আপনারা দেখতে পাবেন এখান থেকে।
আমি সেদিন উইকিপিডিয়াতে গিয়ে হরলিকস্ সম্পর্কে পড়ে তো অবাক হলাম এবং সত্যই তো, আমি যখন ছোট ছিলাম, হরলিকসের বিজ্ঞাপনে তাই বলা হতো, যে এটা ঘুমের সময় পান করলে ভালো ঘুম হয় এবং শরীরকে রাখে চাঙ্গা। ভারতে যখন হরলিক উৎপাদন শুরু হলো, তখন বলা হতো পরিবারের পুষ্টির চাহিদা মেটায় হরলিকস্। আমি একটা জিনিসই বুঝলাম না, মল্ট যা কি-না গমের মতই একটা দানা এবং সাধারণত বিয়ার তৈরীতে ব্যবহৃত হয়, এটা দিয়ে তৈরী পানীয় আবার পরিবারের কি পুষ্টি যোগাবে!!!
যাই হোক, এর পরে যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রক সংস্থা – অ্যাডভারটাইজিং স্ট্যান্ডার্ড এজেন্সি (এএসএ) সেদেশে স্বাস্থ্য ও পুষ্টির ব্যাপারে ‘প্রমাণিত নয়’ এমন দাবি করায় হরলিকসের বিজ্ঞাপনে প্রচার বন্ধ করেছে। আজকেও টেলিভিশনে দেখলাম যে আমাদের দেশে ঐ স্লোগান নিয়ে বিজ্ঞাপন প্রচার হচ্ছে এবং বিজ্ঞাপনেই দেখাচ্ছে একই স্কুলের ছাত্র/ছাত্রীদের উপর গবেষণা করে না-কি ঐ ফল পাওয়া গিয়েছে। তাহলে কি হরলিকস্ ইয়াবা’র মতই একটা ড্রাগ! যেটা তৈরী কারা হয়েছে আমাদের বাচ্চাদের মোটা তাজা করার জন্য!!
মোটা তাজার কথা বলতে গিয়ে মনে পড়ে গেলো যে আমাদের গ্রামে বেশ কয়েকটি Beef Fattening (গরু মোটাতাজা করণ) প্রকল্প রয়েছে। সেখানে ছয় থেকে সাত মাস বয়সের বাচ্চা গরু কেনা হয় এবং এক থেকে দেড় বছর ধরে যত্ন নেয়া হয়, ভালো ভালো খাবার দেয়া হয় এবং খাবারে মেশানো হয় ইউরিয়া সার। যারা ইউরিয়া সার সম্পর্কে জানেননা, তাদের একটু সংক্ষিপ্ত পরিচিতি দেই। এটি একটি খুব শক্তিশালী সার। আমি যতদুর জানি, মাটিতে এই সারের প্রয়োগ করলে উদ্ভিদ/ফসল দ্রুত বেড়ে উঠে আর তাই এই সার ব্যপকহারে এই উপমহাদেশে ব্যবহৃত হচ্ছে। একটা বাঁধাকপি বা একটা টমেটো গাছের জীবনে ৩/৪টা ইউরিয়া সারের দানাই যথেষ্ট। তো ঐ গরু মোটাতাজা করণ প্রকল্পের খাবারে একটি গরুকে সপ্তাহে ২টি দানা খাওয়ানো হয়, এবং সেটাই না-কি ভীষণ কাজ করে গরুর বেড়ে এবং শক্তিশালী হয়ে ওঠায়!
উপরের বিশ্লেষণটি দেবার কারণ এই যে, যদি হরলিকস্ খাইয়েই বাচ্চাকে লম্বা, কঠিন এবং ধুর্ত করতে হবে, তাহলে এত টাকা দিয়ে হরলিকস কেনার দরকার কি, ইউরিয়া সার খাওয়াই।
আমাদের বিজ্ঞাপণে কি দেখায় আর কি বলে, ৯৯% মানুষ লক্ষ্য করেনা। এক সময় বলা হতো, “লেমন ডিউ সাবানে রয়েছে প্রকৃতিক উপাদান অয়েল-অফ-কেট।” যার বিশ্লেষণ করলে দাঁড়ায় Oil-of-Cat, তার মানে লেমন ডিউ সাবানে বিড়ালের চর্বি রয়েছে এবং সেটা প্রাকৃতিক। হাঃ হাঃ হাঃ
যাই হোক, আমরা অনেকে বুঝলেও কিন্তু প্রকাশ করতে পারি না। আমি বুঝেছি, আমার এই লেখার পাঠকেরা বুঝেছে, কিন্তু বলবে কাকে? আমাদের কথা শুনবে কে। এই লেখাও পেছনের পাতায় হারিয়ে যাবে এবং ভবিষ্যতের নতুন পাঠকেরা জানবেও না যে এরকম একটা লেখা ছিলো। আমরা কোনোদিন কিছুই করতে পারবো না এরকম বিষয়গুলি নিয়ে।
তাহলে একটা গল্প বলে শেষ করি। বাসের এক সিটে দুই জন যাত্রী বসে আছেন। একজন এমনি বসে আছেন এবং আরেকজন সিগারেট টানছেন। অপর যাত্রী সিগারেটখোরকে বাসের ভেতরের একটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “ভাই দেখেন না, লেখা আছে, ধূমপান নিষেধ?” সেটা শুনে সিগারেটখোর আরেকটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “আপনার কোনো অভিযোগ থাকলে চালককে বলুন।” সেটা দেখে অপর যাত্রী চালকের কাছে গিয়ে বলছে, “চালক ভাই, আমার পাশের সিটের ঐ ভদ্রলোক ধূমপান করছেন এবং আমার সমস্যা হচ্ছে, আপনি একটু বিষয়টা দেখবেন।” তাই শুনে চালক বাসের ভেতরের আরেকটি সতর্কবার্তা লেখা দেখিয়ে দিয়ে বললেন, “চলন্ত গাড়ীতে চালকের সাথে কথা বলবেন না।”






খুব ভাল কথা বলছেন।চমতকার ভাবে বলছেন, কিন্তু কারা দেখবে এসব??
বিবেকদের সন্তান রা ত আর এগুলা খায় না
সকল মিডিয়ায় কোম্পানীগুলোর অনৈতিক, ভ্রান্ত, প্রলুদ্ধকরণ বিজ্ঞাপন বন্ধ করতে হবে
আজও সকল মিডিয়া চলছে গুড়ু দুধ কোম্পানীগুলোর অনৈতিক ও ভ্রান্ত প্রলূব্ধকরন বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন। কোন কোন দুধ কোম্পানীতো বিজ্ঞাপনে দেখাছে যে শুদুমাত্র তাদের দুধে শিশুরা কয়েক ইঞ্চি বাড়ে। কেউ দেখায় বাচ্চারা হয়ে ওঠছে অসম্ভব শক্তিশালী………………….
আমরা আমাদের দেশের পরীক্ষার মাধ্যমে মেলামাইনের অস্তিত প্রমাণ পাওয়ার পরও কোন ভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছি না কোম্পানীগুলোকে। গুটিকয়েক ব্যক্তি অর্থনীতির দোহায় দিচ্ছে কিংবা কেউ দেখছে বড় কোম্পানী বলে । কিন্তু তার তো এই দেশে ব্যবসা করছে, ব্যবসা বন্ধ হলে তাদের লস আমাদের থেকে বেশি হবে। আর অর্থনীতি উনয়ন্ন কি দেশের সকল মানুষকে মৃত্যুর দিকে ধাবিত করাই?
Makes me wonder when will we have better ad regulatory bodies. Never?
Thanks Omi bhai for writing about this!
@hasin
আমি Oil of Cat কিন্তু ভুল বুঝি নাই। যে জিনিসের সাথে মানুষ পরিচিত না, সেটা বিজ্ঞাপনে ব্যবহার করা ঠিক হয় নাই। আটষট্টি হাজার গ্রামের মানুষ কিন্তু cade (আমার স্পেল চেকারো দেখি বানানটা চেনে না) বোঝে না।
@Mostahid
আপনি ঠিকই বলেছেন। হতে পারে আমরা কোনোদিন কোনো বিজ্ঞাপন দেখে ইয়াবা খেতে থাকবো।
এইদেশে যতদিন না করপোরেশন গুলোকে sue করা যাবে, ততোদিন ধরে এইভাবে ___ খেয়ে যেতে হবে । শেষের জোক টা জটিল মজার হইছে !
“গিয়েছে।তাহলে কি হরলিকস্ ইয়াবা’র মতই একটা ড্রাগ!”
অমি ভাই, তাহলে টিভিতেকি ইয়াবারও বিজ্ঞাপন দেখবো আমরা? ইয়াবা নামটা যেহেতু কুলশিত হয়েগেছে, নাম বদলে মালটা কিন্তু বিক্রি করতে পারে। দেখার তো কেউ নেই।
hi, Omi vai another nice post. One writing can ignite many ppl. Can you post this in ap forum pls ?
omi, the word was actually “oil of cade”. cade is the name of a tree.
for interested viewers, here is the url of the metro news http://www.metro.co.uk/news/article.html?TV_ads_banned_for_being_too_strong&in_article_id=368733&in_page_id=34
i am really speechless and slack-jawed. everyone’s lying!!
Again a very nice post by Omi Azad
আরে ভাই আমরা কি করমু। আমরা পড়ছি মাইনকা চিপায়। আর কোম্পানি গুলা এইরকম না করলে তো হুজুগে বাঙালি এইসব কিনবে না। আর মায়েরা তাদের বাচ্চাদের কি এ্যাড দেখিয়ে ভাত খাওয়াবে? (মজা করলাম)