দেশের ভেতর আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা হতে পারে মোবাইল অপারেটরদের জন্য নতুন ব্যবসার ও গ্রাহকদের জন্য নতুন সেবার সম্ভাবনা

আমাদের দেশে এখন ছয়টি মোবাইল অপারেটর সফলভাবে কার্যক্রকম চালিয়ে যাচ্ছে। প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিঃ, গ্রামীণফোন লিঃ, টিএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিঃ, ওরাসকম টেলিকম বাংলাদেশ লিঃ, টেলিটক বাংলাদেশ লিঃ এবং ওয়ারিদ টেলিকম ইন্টারন্যাশনাল লিঃ। এদের মধ্যে কারও কারও দেশব্যাপি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক কাভারেজ রয়েছে আবার এখনো কারও কারও নেটওয়ার্ক দুর্বল। আবার এখনো এমন দেখা যায় যে অনেক স্থানে কোনো কোম্পানীর নেটওয়ার্ক কাভারেজ আছে আবার অনেক স্থানে নেই। শুধু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেই না, খোদ ঢাকার অনেক বহুতল ভবনে ঢুকলে দেখা যায় এই মোবাইল অপারেটরের গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক পাচ্ছে আবার ঐ অপারেটরের গ্রাহকরা নেটওয়ার্ক পাচ্ছেন না। কারণ অনেক অপারেটররা ঐ ভবনগুলিতে ইনডোর মাইক্রো বিটিএস লাগিয়ে গ্রাহকদের সেবা দিচ্ছে।

পৃথিবীর অন্যান্য দেশে কিন্তু দেশের ভেতরে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের সুবিধা দিয়ে থাকে। ভারতের কথা ধরা যাক, সেখানে আইডিয়া নামের অপারেটর শুধু দুই থেকে তিনটা রাজ্যে সেবা প্রদান করে থাকে। এর অর্থ এই না যে আপনা আইডিয়ার গ্রাহক হলে আইডিয়ার প্রদেশগুলির বাহিরে অন্য প্রদেশে গিয়ে নেটওয়ার্ক পাবেন না। অন্য প্রদেশের অপারেটরের নেটওয়ার্কে আপনি রোমিং করতে পারবেন এবং এরজন্য হয়তো মূল কল চার্জের সাথে সামান্য কিছু পয়সা বেশী দিতে হবে আপনাকে।

ঠিক সেভাবেই ধরা যাক আমি টেলিটকের গ্রাহক, দিলকুশার জীবন বীমা ভবনে অবস্থিত বোর্ড অফ ইনভেস্টমেন্ট অফিসে একটা কাজে গিয়েছি, সেখানে দেখি আমার মোবাইলে নেটওয়ার্ক নাই। কিন্তু ওয়ারিদ বা বাংলালিঙ্ক গ্রাহকরা দিব্বি মোবাইল ব্যবহার করছেন। খোঁজ নিয়ে জানলাম একটেল, ওয়ারিদ ও বাংলালিঙ্ক ঐ ভবনের ভেতরে ইনডোর মাইক্রো বিটিএস স্থাপন করেছে সেবা প্রদানের জন্য।

এখন যদি আমাদের দেশে আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা থাকতো, তাহলে আমি দিব্বি ঐ তিনটি অপারেটরের একটিকে নির্বাচন করে নিয়ে আমার মোবাইল ব্যবহার করতে পারতাম সেই সাময়িক সময়ের জন্য। অন্য অপারেটরের নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য আমাক হয়তো ইনকামিং বা আউডগোইং উভয় ক্ষেত্রে মিনিট প্রতি অতিরিক্ত ০.০৫ টাকা বিল দিতে হতো। আর আমি যেই অপারেটরকে নির্বাচন করেছি রোমিং কারার জন্য, এই ০.০৫ টাকা ঐ অপারেটর পেতো।

এভাবেই ধরুণ আমি একটা গ্রামে গেলাম, যেখানে টেলিটকের নেটওয়ার্ক নেই, কিন্তু গ্রামীণফোনের আছে। আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা থাকলে আমি ঐ নেটওয়ার্ক নির্বাচন করে আমার মোবাইল ব্যবহার করতে পারতাম। এই ক্ষেত্রে হয়তো কল করার জন্য আমার কল চার্জের সাথে মিনিটপ্রতি ০.০৫ টাকা অতিরিক্ত এবং কল গ্রহণ করার জন্য মিনিটপ্রতি ০.০৫ টাকা হারে চার্জ দিতে হতো। এই অতিরিক্ত চার্জটা কিন্তু পেতো গ্রামীণফোন।

এই যে গ্রামীণফোন কত রকমের প্রচার করছে যে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের নেটওয়ার্ক আছে ইত্যাদি ইত্যাদি, কিন্তু বিল বেশী হওয়ায় অনেকেই ওদের সেবা নিতে আগ্রহী না। কিন্তু যদি আজকে আভ্যন্তরীণ রোমিং সুবিধা থাকতো, তাহলে গ্রামীণফোন খুব সুন্দর রোমিং নেটওয়ার্ক ভাড়া বাবদ অনেক টাকা উপার্জন করতে পারতো।

যাই হোক, আমাদের আশা ভালো সেবা পাওয়া। আমার কাছে মনে হয়েছে এই সুবিধা থাকলে আমাদের উপকার হতো এবং সেই সাথে মোবাইল অপারেটরদেরও একটা নতুন ব্যবসার দুয়ার উন্মোচিত হতো। এখন দেখা যাক কি হয়। দেশ যতই ছোটো হোক, ১০০% নেটওয়ার্ক কাভারেজ কিন্তু এখনো কোনো অপারেটর দিতে পারেনি।

Leave Comments...

aR says:

আপনার আইডিয়াটাতো বেশ ভালো। আগে কখনও এমনটা ভাবিনি। হুমমম, দেশে এমন হলে আমাদের খুব সুবিধাই হতো। কিন্তু মোবাইল কোম্পানিগুলো কি গ্রাহকের সুবিধার কথা চিন্তা করে?

aR
Bangla Hacks

shamim says:

i totally agree with you Omi vhai.

btw i had no idea what roaming means or what it does but thanks to your this post i understand what roaming means or how it works.so thanks Omi vhai for this useful post.:)

shamim says:

GOOD NEWS GUYS! BTRC DECIDED TO TO REDUCE BANDWIDTH CHARGE BY AS MUCH AS 33 PERCENT FROM 27000 TAKA PER MEGABIT TO 18000 TAKA PERMEGABIT EFFECTIVE FROM THIS JULY 1 2009.(FROM PROTHOM ALO 18TH JULY PAGE 2)

I CALLED GRAMEEN PHONE AND ASKED THEM WHETHER THEY WILL REDUCE THE INTERNET CHARGE AS EARLY AS POSSIBLE.BUT AS USUAL GUY FROM GRAMEEN SAID THEY STILL HAVEN’T GOT THE NEWS.SO I TOLD HIM IF GOVERNMENT INCREASED VAT OR ADDED EXTRA CHARGE FOR SIM THEN THEY PROBABLY ALREADY HEARD THAT PROBABLY TAKING STEPS TO INCREASE THE PRICE BUT WHEN IT IS A MATTER OF REDUCING PRICE THEN THEY DON’T SEEM TO HEAR THE NEWS SOON(TO AVOID THE REDUCTION OF PRICE).

I TOLD HER LOOK WE KNOW WHAT GRAMEEN IS DOING AS A COMPANY.WHICH IS VERY GREEDY AND UNFAIR BUSINESS.

ANYWAY HERE IS THE LINK TO THE NEWS FROM DAILYSTAR

http://www.thedailystar.net/newDesign/news-details.php?nid=97233

রুমেল says:

আমার কাছে প্রায় এক বছর আগের একটা খবর আছে যে, ওয়ারিদ টেলিকম অন্য দুইটা অপারেটর(সিটিসেল এবং বাংলালিংক) এর বেস ষ্টেশন শেয়ার করবে!!! এখানে যদিও রোমিং না শুধু টাওয়ারটা শেয়ার করবে(প্রায় একই জিনিষ)এবং নিজস্ব বিটিএস থাকবে। তবুও প্রচুর খরছ কমতো আর গ্রাহকরা লাভবান হতো।
এরকম যদি সব অপরেটর করতো তাহলে বাংলাদেশে কাভারেজের কোন সমস্যা থাকতোনা।

ফাহাদ says:

অসাধারণ লিখেছেন ভাইয়া।

Omi Azad says:

@Mazedul Islam
ওরা কমার্শিয়ালভাবে নাম পরিবর্তন করলেও বিটিআরসি এখনো নাম পরিবর্তনের অনুমতি দেয়নি। বিষয়টা এখনো প্রক্রিয়াধীন আছে।

আর একসাথে বিটিএস বসালেও কিন্তু সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা। আমরা যে কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা খরচ করে বিটিএস কিনছি, সেটাতেও কিন্তু দেশের টাকা বাহিরে চলে যাচ্ছে। সেই খরচের পরিমাণও কমানো সম্ভব বিটিএস শেয়ার করে বা রোমিং সুবিধা দিয়ে।

ছোট কোম্পানী গুলো মিলে যৌথ খরচে BTS স্থাপন করলে কিন্তু কোনো লাভ হচ্ছে না, আর প্রযুক্তিগত ঝামেলাও আছে। হবে বলে মনে হয়না, হলে এরকম কাজ বিশ্বের অন্য দেশেও করতো। রোমিং সুবিধা দিলে কিন্তু ঘরে টাকা আসছে।

টিএম ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ লিঃ জাপানের NTT DOCOMO এর কাছে শেয়ার বিক্রি করার পর থেকে নাম পরিবর্তন করে Axiata (Bangladesh) Ltd. করা হয়েছে।আর বাংলাদেশের কোম্পানী গুলো কখনই মাত্র ০.০৫ টাকা প্রতি মিনিটে রোমিং সুবিধা দেবে না,তার চেয়ে ছোট কোম্পানী গুলো মিলে যৌথ খরচে BTS স্থাপন করলেই সমাধান হবে বলে মনে করি।এর ফলে দেশের বিদ্যুৎ খরচও বাঁচবে।

চমৎকার একটা ধারনা…… @মাসম ভাই, আপনার কথাই ঠিক…. আমাদের কোন অপারেটর অন্য অপারেটরকে দেখতে পারেনা……. সবকিছুর মূলে বিটিআরসি… ঘুষ খায় আর বসে থাকে…..

@অমি ভাই,
আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ….. ডিজিটাল বাংলাদেশ এর অপেক্ষায়…. :D

m3hrab says:

Very useful post! I hope the grameen numbnuts read this article and make a wise decision! nice post.

ভাল লেখছেন ভাই। কিন্তু আমাদের দেশে এই শুবিধা আসবে তো? আমাদের অপারেটররা তো আবার একে অপরকে দেখতে পারে না।